১ম থেকে ৫ম শ্রেণির গণিত ভীতির সমাধান: চারটি উপকরণ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ১ম থকে ৫ম শ্রেণি
পর্যন্ত ‘প্রাথমিক গণিত’ বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকে গণিতের বিষয়বস্তুকে তিনটি ক্ষেত্রে ভাগ
করা হয়। বিষয়বস্তুর ক্ষেত্র তিনটি হল সংখ্যা, জ্যামিতিক আকৃতি ও পরিমাপ, উপাত্ত উপস্থাপন।
প্রাথমিক গণিত পাঠ্যপুস্তকে ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রটিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। কেননা
‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রটির সচ্ছ ধারণা উপর অন্য দুটি ক্ষেত্রের পারদর্শিতা নির্ভর করে।
প্রথম শ্রেণিতে ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রের
বিষয়গুলো হল-তুলনা, গণনা, সংখ্যা (১-১০০),যোগের ধারণা, বিয়োগের ধারণা,স্থানীয় মান।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রের বিষয়গুলো হল-সংখ্যা পড়া (২১-১০০), সংখ্যা (১-১০০০),
স্থানীয় মানের সাহায্যে সংখ্যার তুলনা, জোড়-বিজোড়, ক্রমবাচক সংখ্যা, যোগ বিয়োগের সম্পর্ক,
গুণ। তৃতীয় শ্রেণিতে ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রের বিষয়গুলো হল- সংখ্যা (১- ১,০০,০০০), গুণ, ভাগ,
গুণ ভাগের সম্পর্ক, যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ সংক্রান্ত সমস্যা, সাধারণ ভগ্নাংশ। চতুর্থ শ্রেণিতে
‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রের বিষয়গুলো হল -সংখ্যা (১-১,০০,০০,০০০), বড় সংখ্যার স্থানীয় মান,
গুণিতক ও গুণনীয়ক, সাধারণ ভগ্নাংশ। পঞ্চম শ্রেণিতে ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রের বিষয়গুলো হল-
গুণ, ভাগ, চার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সমস্যা, গুণিতক ও গুণনীয়ক, গড়, সাধারণ ভগ্নাংশ।
১ম থকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৯৮। ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রটির
জন্য বরাদ্দকৃত পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪২৫ । অর্থ্যাৎ পাঠ্যপুস্তকের ৬১% পৃষ্ঠা জুড়ে আছে ‘সংখ্যা’
ক্ষেত্রটি।
এবার অন্য একটি তথ্য জানি… ‘জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, ২০২২ অনুযায়ি ৩য়
শ্রেনির শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের হার ৩৯%, ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের
গণিতের প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের হার ৩০%’।
অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থী গণিতের বিষয়গুলো না জেনে- বুঝে
প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পন্ন করছে। প্রশ্ন হলো এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
উত্তরণের উপায় হল, গণিতের “সংখ্যা” ক্ষেত্রটির উপর সচ্ছ ধারণা অর্জনে সহায়ক
এমন উপকরণ তৈরি করা যাতে ধারণা সচ্ছ হয়। যা শিক্ষার্থীরা সহজে নিজেরাই তৈরি করতে পারে এবং পুনরায় ব্যবহার যোগ্য হয়। আবার নতুন যেকোন কিছু শিখতে প্রথমে সময়
লাগে বেশি। তাই সহপাঠীর সাথে দলে খেলাচ্ছলে অনুশীলন
করতে পারে, এমন উপকরণ প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে মাত্র চারটি উপকরণ ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকের ৬১% পৃষ্ঠা জুড়ে আছে ‘সংখ্যা’ ক্ষেত্রটির সচ্ছ ধারণা প্রদান করা যায়।
উপকরণ-১। স্থানীয় মানের widget - এই উপকরণের
মাধ্যমে দশ এর দল গঠন করে স্থানীয়মান, সংখ্যা গঠন,
শূণ্য এর ধারণা, যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান (সংখ্যা প্রতীক ব্যবহার করে) ইত্যাদির অনুধাবন
ও অনুশীলন করতে পারবে।
উপকরণ-২। সংখ্যা বাক্স - এই উপকরণের মাধ্যমে এবাকাসের মাধ্যমে স্থানীয়মান, বড় সংখ্যা গঠন, বাংলায় সংখ্যায় পড়া ইত্যাদির অনুধাবন ও অনুশীলন করতে পারবে।
উপকরণ-৩। সংখ্যা রেখার চার্ট - সংখ্যার অপারেশনগুলো
বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন না করে, শূণ্য থেকে একশ পর্যন্ত সংখ্যা
রেখার চার্ট ব্যবহার করে মালাগাঁথার মত করে উপস্থাপন করতে হবে। এই উপকরণের মাধ্যমে শূণ্য, সংখ্যার ক্রমের ধারণা, গণনার ধারণা, দলগত ধারণা, জোড় সংখ্যা, বিজোড় সংখ্যা,
মৌলিক সংখ্যা, গুণণীয়ক, গুণিতক,সংখ্যার প্যাটার্ণ, যোগের ধারণা, বিয়োগের
ধারণা, গুণের ধারণা, ভাগের ধারণা
ইত্যাদির অনুধাবন ও অনুশীলন করতে পারবে।
উপকরণ-4। ভগ্নাংশের সংখ্যা রেখা- ভগ্নাংশের ধারণা, সমহর
করার প্রয়োজনীয়তা, ক্ষুদ্র এক একক বলতে কী বুঝায়, ঐকিক নিয়ম সম্পর্কে ধারণা ইত্যাদির
অনুধাবন ও অনুশীলন করতে পারবে।
ঐকিক নিয়ম দিয়ে আরোহী পদ্ধতিতে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ সম্পর্কিত কথার সমস্যা, ভগ্নাংশ ও দশমিক ভগ্নাংশ সক্রান্ত সমস্যা ও
শতকরা-মুনাফা-লাভ ক্ষতি সক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা যায়।
এই উপকরণগুলো ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে মনে রাখতে
হবে, প্রথমে বিষয়বস্তুটির ধারণা অনুধাবন করে সমস্যা সমাধান করবে, এক বিষয়বস্তুর সাথে
অন্য বিষয়বস্তুর সংযোগ স্থাপন করতে হবে। পরবর্তীতে টেকনিক শিখবে। আবার যদি কেউ ধারণাটি বুঝতে
পারে, এস্টিমেশন ও গেস্টিমেশন এ দক্ষ হয়, তবে নিজেই টেকনিক তৈরি করতে পারবে। এর
জন্য প্রয়োজন গণিতের প্রতি ভালবাসা।
নূরুন্নাহার ,ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ),পিটিআই মুন্সিগঞ্জ





Nice Blog.
ReplyDelete